ঢাকাসোমবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

৪২৯ ভুয়া গার্মেন্টস: এফবিসিসিআইকে নিষ্পত্তি করতে ৭ দিন সময় দিলেন হাইকোর্ট

নিউজ পোর্টাল ২৪
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪ ৪:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশের ৪২৯টি ভুয়া গার্মেন্টস কারখানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এফবিসিসিআইকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ওই কারখানাগুলোকে বিজিএমইএর ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ভুয়া কারখানাগুলোর ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) ঠিক আছে কি না তা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) সহায়তা করার জন্য বলেছেন হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। সুরমা গার্মেন্টস মালিক ফয়সাল সামাদ এ রিটটি দায়ের করেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান।

প্রসঙ্গত ৪২৯টি ভুয়া তৈরি পোশাক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে ৬৭টি কারখানার নাম ওই নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচনী আপিল বোর্ড। তবে বাকি কারখানাগুলোর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন দিয়েছে একটি পক্ষ। এফবিসিসিআই আরবিট্রশেন ট্রাইব্যুনালে গত ৩১ জানুয়ারি ভুয়া ভোটারের বিষয়ে আবেদন দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তা শুনানির জন্য আসেনি। এ বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের মহাসচিব বরাবর একটি তাগাদাপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পরও এ বিষয়ে কোন শুনানি হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হবে কি না সে বিষয়েও অভিযোগকারীকে কিছু জানানো হয়নি।

রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজিএমইএর সদস্য হতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কারখানার টিআইএন নম্বর থাকতে হবে। রিটার্নও হালনাগাদ থাকতে হবে। যেসব কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলোর কারও কারও হয়তো কারখানা ছিল। তাদের অনেকে নানা কারণে ব্যবসার বাইরে আছেন।

তিনি বলেন, যেসব কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো থেকে ৭০ থেকে ৮০ জনের নাম বিজিএমইএ নির্বাচনের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাদ দিয়েছে। এরপর সংক্ষুদ্ধ হয়ে রিটকারী এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন। কিন্তু সেখানে তারা আপিল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করছেন। এজন্যই আদালতে রিট করা হয়েছে। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিলেন। পাশাপাশি এই বিলম্বকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক সংগঠন। এ সংগঠনের নির্বাহী কমিটিতে যারা যাবেন তারা যাতে বৈধ ভোটার দিয়ে নেতা নির্বাচিত হতে পারেন সেজন্য কোর্ট এ আদেশ দিয়েছেন।

আগামী ৯ মার্চ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদেও সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচন হবার কথা। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়। সে তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিষয়ে সন্দেহ হলে ঘটনা সবার সামনে আসে। এর আগে ৪২৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে টিআইএন আছে কি না তা পরীক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি পক্ষ তাদের অভিযোগ, সদ্য প্রকাশিত প্রাথমিক ভোটার তালিকায় থাকা ৪২৯ জনের কর প্রদানের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সংগঠনের নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ওই ভোটারদের নাম ও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সম্বলিত একটি তালিকাসহ আপত্তিপত্র দেওয়া হয়।