ঢাকাসোমবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবস, চিকিৎসায় ৯০% রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

নিউজ পোর্টাল ২৪
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪ ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ মৃগীরোগে আক্রান্ত। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় এ রোগে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার হার বাড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিয়মিত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃগীরোগে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে রোগমুক্তি সম্ভব নয়।

১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। কারণ দেশে এ রোগে সার্জারির ব্যবস্থা সীমিত।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘এপিলেপসির (মৃগীরোগ) সঙ্গে চলা ও আমার অর্জনসমূহ’।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সোমবার এ রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দিবসটি পালন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু কালের কণ্ঠকে বলেন, ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃগীরোগ শুরু হয় শিশু বয়সে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ রোগ বেশি হয়। উন্নত দেশগুলোতে খুব কম।

ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু বলেন, জন্মের সময় নানা ধরনের সমস্যার কারণে মূলত মৃগীরোগ হয়। এর মধ্যে যে শিশু কান্না করে না বা কান্না করতে দেরি হয়, অক্সিজেনের অভাব হওয়া, ব্রেইনে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, জন্মের সময় বেশি আকারে জন্ডিস হয় অথবা জন্মের সময় খিঁচুনি শুরু হয়। এসব শিশুর মৃগীরোগ দেখা দেয়।

মৃগীরোগের লক্ষণ
হঠাৎ অস্বাভাবিক কাঁপুনি বা খিঁচুনি হওয়া, চোখ-মুখ উল্টে হাত-পা ছোড়া, অচেতন হওয়া, মুখ দিয়ে ফেনা বা লালা বের হওয়া কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের পাতা স্থির হয়ে যাওয়া, একদৃষ্টিতে একদিকে চেয়ে থাকা অথবা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে তাকে মৃগীরোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

১০% কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না
ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু বলেন, দেশে মৃগীরোগের চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে সুযোগ রয়েছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।

বেশির ভাগ রোগীর সমস্যা হলো দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ সেবন করতে পারে না বা করতে চায় না। এ ওষুধ একবার শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না। তিন থেকে পাঁচ বছরে খিঁচুনি যদি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হয়, তখন ওষুধটি বন্ধ করা যায়। এ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ইইজি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ দিয়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ১০ শতাংশ খাবার ও ইনজেকশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে পুরোপুরি রোগমুক্তি সম্ভব নয়। এর বাইরে ১০ শতাংশ কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। কারণ এদের সার্জারির প্রয়োজন হয়। এ সার্জারির ব্যবস্থা আমাদের দেশে খুব সীমিত।

খিঁচুনি মানেই মৃগীরোগ নয়
বিএসএমএমইউর শিশু নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, কোনো কারণ ছাড়া যদি দিনে দুইবারের বেশি খিঁচুনি হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি মৃগীরোগের উপসর্গ। মৃগীরোগ হলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগে। অন্য রোগ থেকে খিঁচুনি হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে হয়। খিঁচুনি হয় যখন ব্রেইনের মধ্যে রক্ত চলাচলে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রেইনে অক্সিজেনের অভাব হয়। যে কারণে সারা শরীরে ঝাঁকুনি হয়।

কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, যেমন জ্বরের খিঁচুনি হলে, যখন জ্বর আসবে তখন খিঁচুনির ওষুধ খেতে হয়। ম্যানিনজাইটিস রোগের লক্ষণ হিসেবে খিঁচুনি হলে সঙ্গে সঙ্গে ভালো হয়ে যায়। কোনো চিকিৎসা লাগে না। অর্থাৎ কোনো কারণ ছাড়া খিঁচুনি হলে তখন বুঝতে হবে এটি মৃগীরোগের লক্ষণ। রোগটি নানা বয়সের মানুষের হতে পারে। ধরন ও বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা আলাদা।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে মৃগীরোগ হলে অনেক সময় একে জিন বা ভূতের আছর হিসেবে ধরা হয়। ঝাড়ফুঁক, তাবিজকবচ করা হয়। এটি ঠিক নয়। মৃগী আসলে স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিলতা। চিকিৎসায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীর খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।