ঢাকাFriday , 3 September 2021

পুরুষ ও মহিলাদের চুল পড়া বন্ধের ঔষধ, চুল পড়া বন্ধ করার ও নতুন চুল গজানোর ঘরোয়া উপায়

Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক:: আপনি কি চুল পড়া বন্ধ করার উপায় খুঁজছেন ? চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা আপনাকে একটি সঠিক গাইডলাইন দিবো। যার মাধ্যমে চুল পড়া ও চুল গজানোর উপায় জানতে পারবেন। চলুন বিস্তারিত ভাবে আলোচনা শুরু করা যাক।

অতিরিক্ত টেনশন, পুষ্টির অভাব ও প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা না ঘুমালে চুল পড়া খুবই স্বাভাবিক।

চুল পড়া বন্ধ করতে নিয়মিত ৮ ঘণ্টা ঘুম যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি সুষম খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি।

চুল কেন পড়ে ?

শতকরা ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত/ বংশগত ।এ কারণে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের মাথার মাঝখানের ও কপালের দুই পাশের এবং মেয়েদের মাথার উপরিভাগের ওদু’পাশের চুল পাতলা হয়ে যায়।

খুস্কি তো চুল এর বিশ্বস্ত শত্রু, চুল তো সে ফেলবেই। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা, স্টাইল করা ও রঙ করা চুল এর জন্য ক্ষতিকর। থাইরয়েড হরমোনজনিত বালিভারের সমস্যাজনিত কারণেও চুল পড়তে পারে। কেমোথেরাপি নিলে চুল পড়ে যায়। মহিলাদের মেনোপজ হলে অর্থাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে চুল পড়ে।

অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল করছেন ? সাবধান! এতেও কিন্তু চুল পড়ে।

ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জনিত ইনফেকশনের কারণে চুল কমে চুল এর অযত্ন হলে সে কি আর থাকে মাথায়? কেমিক্যাল ব্যবহারেও চুল পড়ে। মানসিক চাপ চুল এর উপরেও চাপ তৈরি করে ।

পরিবারের কারো রিউমাটয়েড আথ্রাটিস, হাপানি, প্যারনেসিয়াস অ্যানিমিয়া ইত্যাদি রোগ থাকলে সেই পরিবারের লোকজনের চুল পড়া রোগও হতে পারে।

রক্তস্বল্পতা, যেমন- আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা চুল পড়ার কারণ ।

বিভিন্ন রকমের রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ যেমন- লুপাস, মূত্রনালীর প্রদাহ, পলিসিস্‌টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ইত্যাদি চুল পড়ার কারণ।

নানা ধরনের ওষুধ যেমন- জন্মনিয়ন্ত্রিন পিল, এনটি ডিপ্রেসেন্ট, বিটা ব্লকার, কিছু এনএসএআইডি, ইমিউনো সাপ্রেসিভ এজেন্টস ইত্যাদি সেবন করলে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যেতে পারে।

হঠাৎ করে ওজন কমে যাচ্ছে ? চুল ও কমে যেতে পারে। হজমের সমস্যায়ও চুল পড়তে দেখা যায়। প্রয়োজন মতো না ঘুমালে কিন্তু মাথায় চুল খুঁজে নাও পেতে পারেন। গর্ভাবস্থায় চুল পড়তে পারে। বড় কোন অপারেশনের পর চুল পড়তে পারে। ভিটামিন ই কম খেলেও চুল কমতে পারে । অতি মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ খাবেন না, চুল কিন্তু পড়তে পারে।

অতি কর্মব্যস্ততা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। গরমেও  চুল পড়া বেড়ে যায়।

চুল নিয়ে কিছু ভুল যা আমরা ঠিক বলেই জানি

লম্বা সময় টুপি পড়ে থাকলে চুল পড়া বাড়ে।
শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে। লম্বা চুল চুল এর গোড়ায় বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে। কালার বা কন্ডিশনিংয়ের কারণে চুল পড়ে। ম্যাসাজিং করে চুল পড়া বন্ধ করা যায়।

চুল পড়া রোধে কী করবেন-

১. রাতে ঘুমানোর আগে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

২. অ্যালোভেরা জেল ব্লেন্ড করে চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুল পড়া কমানো ও মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করবে।

৩. ডিমের কুসুমের সঙ্গে সামান্য অলিভঅয়েল ও লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। এটি চুল পড়া তো বন্ধ করবে এবং দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

৪. অলিভঅয়েল চুলে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

৫. পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এর পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬. আমলকীর সঙ্গে শিকাকাই পাউডার ও পানি মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। প্যাকটি চুলের গোড়ায় ৪০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে।

চুল কমবেশি সবারই পড়ে। হয়তো কারও কম, কারও বেশি। দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর বেশি হলেই তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার চুল পড়া নিয়ে বেশি চিন্তা করলেও চুল পড়ে বেশি।

এই চুল পড়া সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য প্রথমেই জানতে হবে কী কারণে চুল পড়ছে। কারণটা খুঁজে বের করে, তারপর সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তখন আপনা-আপনিই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে শুধু তা-ই নয়, চুল পড়া বন্ধ করতে ও চুলের গোড়া মজবুত রাখতে নিয়মিত বেশ কিছু যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারমনি স্পার স্বত্বাধিকারী রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, রূপের সঙ্গে চর্চার সম্পর্ক সব সময়ের। আমরা বেশির ভাগ সময় চর্চা করি না। নিয়মিত যেকোনো ভালো অভ্যাস শরীরে ভালো কিছুই নিয়ে আসে। চুল পড়া রোধ করতে বা যত্ন নেওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে শরীরের ভেতরে ও বাইরে দুই দিক থেকেই যত্ন নিতে হবে।

সকালের নাশতায় অবশ্যই দুধ, ডিম ও কলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এই তিনটি খাবার চুলের জন্য খুব উপযোগী। বিশেষ করে এই তিন ধরনের খাবার সকালে খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।

রাহিমা সুলতানা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে চুল পড়ার সমস্যা খুব বেশি দেখা যায়। এ সময় আর্দ্রতা বেশি থাকে। মাথার তালু ভেজা ভেজা থাকে। তাই এ সময় বেশি যত্নের প্রয়োজন হয়। গোসলের আগে মাথায় তেল ঘষে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এ ছাড়া সুষম খাবার না গ্রহণ ও হরমোনের ইমব্যালান্স তৈরি হলেও চুল পড়ে। হরমোনের ইমব্যালান্সের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রূপবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে চুল পড়া রোধে বেশ কিছু উপায় নিচে তুলে ধরা হলো-

অবশ্যই চুলে তেল দিতে হবে: চুল পড়া বন্ধ বা চুলের যত্ন নিতে অবশ্যই তেল দিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হলো নারকেল তেল। নারকেল তেল চুলকে মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান করে। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে, যা যেকোনো ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ থেকে চুলকে রক্ষা করে। তাই সপ্তাহে যে করেই হোক একদিন চুলে তেল দিতে হবে বা শ্যাম্পু করার আগে চুলে তেল ম্যাসাজ করতে হবে।

রোজমেরি ল্যাভেন্ডার তেলের ব্যবহার: এটি চুলের যত্নে অন্যতম কার্যকর একটি উপাদান। এতে তেলে চুল পড়া রোধের উপাদান আছে; যা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। এতে থাকা আমলকী, নারকেল, জলপাই, জোজোবা, ক্যাস্টর উপাদান চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।

কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু প্রত্যাহার: চুলের যত্নে কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পুকে ‘না’ বলুন। শ্যাম্পুতে বিটরুট নির্যাস, তেঁতুলের বীজ আছে কি না, লক্ষ রাখুন। এই উপাদানগুলো চুলের কোনো ক্ষতি না করে কার্যকরভাবে মাথার তালু পরিষ্কার করে। সরাসরি শুকনো চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। তেল দিয়ে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।

অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে: কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল কেবল উজ্জ্বলই হয় না; এটি চুলের গোড়াকে মজবুত করে ও চুলকে মসৃণ করে। তবে অবশ্যই চুলের ধরন বুঝে কন্ডিশনার বেছে নিতে হবে। বিটরুট নির্যাস, অ্যাকুয়া, প্রো ভিটামিন বি-৫ সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

হালকা কুসুম পানির ব্যবহার: অনেকে মনে করেন, গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে চুল ভালো থাকে। এটি একেবারেই ভুল ধারণা। গরম পানি মাথার তালুর গুরুতর ক্ষতি করে, এতে চুল পড়ে ও চুল দুর্বল হয়ে যায়। তাই চুল ধুতে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা সবচেয়ে উপযোগী।

চুলের যত্নে হেয়ারপ্যাক: যদি খুব বেশি চুল পড়তে থাকে তাহলে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘৃতকুমারী, আমলকী, শিকাকাই, নিমের গুঁড়ো একই পরিমাণে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দিতে হবে। সপ্তাহে একবার এটির ব্যবহার চুল পড়া কমাবে। এ ছাড়া ডিম, মেথির গুঁড়ো ও টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দেওয়া যেতে পারে। সপ্তাহে দুদিন এই প্যাক ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হয়। প্যাক ধুতে সহনীয় হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।

গরম বাতাস চুলের জন্য ক্ষতিকরণ: কোনো ধরনের গরম বাতাস বা হিট চুলে নেওয়া যাবে না। এটি চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

জেনে নিন দ্রুততম পদ্ধতিতে চুল লম্বা করার কৌশল

নিয়মিত মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন
নানী-দাদীরা বলতেন না যে তেল দিলে চুল লম্বা হয়? আসলে কিন্তু তেলে চুল লম্বা হয় না, চুল লম্বা হয় তেল দেয়ার সময় মাথায় যে ম্যাসাজ করা পড়ে, ঠিক সেই কারণে। চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করলে এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে চুলের ফলিকল গুলো উদ্দীপিত হয়, চুল পড়া বন্ধ হয় এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। সপ্তাহে কমপক্ষে দুদিন তেল দিয়ে ভালো করে চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। বাড়তি সুবিধা হিসাবে তেলের কারণে চুলে ডিপ কন্ডিশনিং-এর কাজটাও হয়ে যাবে। চুলে তেল দিতে না চাইলে কেবল আঙ্গুল দিয়েও নিজের মাথার ত্বক ম্যাসাজ করতে পারেন। বা চুলে শ্যাম্পু করার সময়েই ম্যাসাজের কাজ সেরে নিতে পারেন।

মহৌষধ ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল হচ্ছে চুল ঘন ও এর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সবচাইতে দারুণ উপায়। ভিটামিন ই এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এই তেলের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। বরং চুল দ্রুত বড় করতে দারুণ ভূমিকা রাখে এই তেল।

সমান সমান পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল ও নারিকেল তেল/অলিভ অয়েল/ বাদাম তেল ইত্যাদি পরস্পরের সাথে মিশিয়ে নিন রবং চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০-৩৫ মিনিট চুলে রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার করবেন। দুবার না পারলে কমপক্ষে একবার। স্ট্রেস কমাতে চাইলে যোগ করতে পারেন কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল।

চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে ত্বরান্বিত করতে ডিমের কোন জুড়ি নেই। ডিমে আছে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন এবং আয়রন, ফসফরাস, জিংক, সেলেনিয়াম, সালফার। একটি বা দুটি ডিম নিন চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী। সাথে যোগ করে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল কয়েক চামচ। এই মিশ্রণ চুলে ম্যাসাজ করে লাগান। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। মাথায় খুশকি থাকলে যোগ করুন কয়েক চামচ লেবুর রস।

চুল ঘন করার ঘরোয়া উপায়

চুল নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন মেয়েরাই। এমনও মেয়েদের আপনি খুঁজে পাবেন যারা চুল ঘন করার জন্য বাজারের কোনো প্রোডাক্টই ব্যবহার করতে বাকি রাখেন নি। কোনটায় হয়তো উপকার পান আবার কোনোটা কাজেই আসে না। আবার কোনটা উল্টো ক্ষতিই করে বসে। তাই আসুন আজ চুল ঘন করার জন্য দুটি প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জানি যেগুলিতে কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার চিন্তা নেই। সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন খানিকটা সময় বের করে নিয়ে নিম্ন বর্ণিত দুটো হেয়ার মাস্কের ব্যবহারেই পেতে পারেন ঘন, কালো ও উজ্জ্বল চুল।

ডিম ও অলিভ অয়েল: চুলের ঘনত্ব ব্রদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।

কিভাবে তৈরী করবেন: একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল(জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন( চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণ পেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।

সরিষার তেল ও মেহেদী পাতা: সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা চুল পড়া রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুন।

কিভাবে তৈরী করবেন: ২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে।

চুল দ্রুত লম্বা করার উপায়

(ক) চুল ছাঁটুন:
চার থেকে আট মাস পরপর অবশ্যই আপনার চুল ছাঁটুন। এতে একটি আদর্শ উপায়ে আপনার চুল দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। যেহেতু আপনার চুল শিকড় থেকে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু আপনার চুলের শেষ প্রান্ত বিভক্ত হবার কারনে চুল রুক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল ছাঁটার কারনে চুলের শেষ প্রান্তের ফাটা অংশ কেটে ফেলা যায়। এর ফলে আপনার চুল ভালভাবে অক্সিজেন নিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে পারে। এতে চুল সুস্থ থাকে ও চুলের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

(খ) গরম তেলের ম্যাসেজ:
প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে গরম তেলের ম্যাসেজ করা অত্যন্ত উপকারী। গরম তেলের ম্যাসেজ চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এর ফলে চুল খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চুল পড়ার সমস্যা দূর করে। মাথার স্ক্যাল্পে জলপাই এর তেল, নারিকেলের তেল, ল্যাভেন্ডার এর তেল ও জজবার তেল গরম করে ম্যাসেজ করতে হবে। এসকল তেল চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুলে ভলিউমের সৃষ্টি হয়।

(গ) চুলের জন্য ভিটামিন ও প্রোটিন:
শুধুমাত্র একটি ভিটামিন ক্যাপসুল আপনার মাথায় ম্যাসেজ করলে বা একটি ডিম মাথায় মেখে রাখলে চুলের স্বাস্থ্যের অনেক উপকার হয়। ডিমের কুসুমের ফলে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও এর ফলে চুলের কোন ক্ষতি হয়ে থাকলে তা থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ফলে চুলের শিকড় আরও শক্ত ও মজবুত হয়।

(ঘ) ঘুমানোর আগে চুল ব্রাশ করুন:
রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে অবশ্যই চুল ব্রাশ করুন। আর চুল যেন কমপক্ষে ৫০ বার ব্রাশ করা হয় তা নিশ্চিত করুন। চুল ব্রাশ করার ফলে চুলের ময়লা দূর হয় এবং চুলের গোঁড়া শক্তিশালী হয়। চুল পড়ার নানাবিধ সমস্যাও দূর হয়।

(ঙ) ডিমের মাক্স:
একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এক সঙ্গে ঘন করে ফেটিয়ে নিন। স্ক্যাল্প ও চুলে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠান্ডা জলে ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিন এতে চুল ঘন হবে। একটা ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু, এক টেবিল চামচ দই, আধ চা চামচ নারকেল তেল বা আমন্ড তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাক চুলে ভাল করে লাগান। দু’ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক লাগালে চুল নরম হবে।

চুল পড়া বন্ধের জন্য নিচে দেয়া ঔষধগুলো নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন-

১। চুলে তেল মালিশ করাঃ চুল পড়া রোধে প্রথম ধাপ হল, সঠিক তেল দিয়ে চুলের গোঁড়ায় ও চুলে মালিশ করা। এ মালিশের ফলে লোমকুপে রক্ত চলাচল বেড়ে যাবে, চুল পড়া বন্ধ হবে এবং চুলের গোঁড়া শক্ত হবে। এটা মাথা ঠান্ডা রাখতে এবং অশান্তিভাব কমাতে সাহায্য করে। নারিকেল তেল, কাঠা বাদাম তেল, জলপাই তেল, রেড়ির তেল (Castor Oil), আমলকী তেল, ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

রোজমেরি সুগন্ধি তেল (Rosemary Essential Oil) যুক্ত করে নিন। তেল হাতের তালুতে নিয়ে আলতো করে পুরো মাথা জুড়ে আগে মাসাজ করে করুন। এরপর আঙ্গুল দিয়ে চুলের গোঁড়ার চারপাশে হালকা চাপ দিয়ে মালিশ করতে থাকুন। সবশেষে পুরো চুলে মালিশ করুন। চুলের যত্নে সপ্তাহে অন্তত একবার করে এই মালিশ করতে হবে।

২। চুল পড়া রোধে আমলকীঃ প্রাকৃতিকভাবে চুলের দ্রুত বিকাশের জন্য আমলকী বা আমলকীর তেল ব্যবহার করেন। এতে অনেক ভিটামিন সি আছে যা চুল পড়া রোধ করতে অনেক কার্যকরী।

আমলকীতে এন্টি-ইনফ্লামেটির, এন্টিওক্সিডেন্ট, এন্টিব্যাক্ট্রিয়াল, এক্সফলিয়াটিং আছে যা চুলের গোড়াকে সতেজ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ আমলকীর নরম শাঁস ও লেবুর রস হাতের তালুতে  নিয়ে চুলের গোঁড়ায় মালিশ করুন। পরিষ্কার ও নরম তোয়ালে দিয়ে অথবা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

৩। মেথির বীচিঃ মেথির বীচিতে প্রচুর আনুগামি হরমোন (Hormone Antecedents) আছে যা চুলের বিকাশ ঘটায় এবং লোমকূপকে পুনর্জীবিত করে। এটা চুলের পড়া বন্ধে প্রাচীন এবং খুব কার্যকরী একটি চিকিৎসা। এতে আরো আছে প্রোটিন এবং নিকোটিন এসিড যা নতুন চুল গজানোর পাশাপাশি চুলকে ঘন করে। রাতে ১ কাপ মেথির বীচি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেটাকে বেঁটে সারা মাথায় লাগান। তারপর ৪০ মিনিট মাথা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন। সবশেষে আলতোভাবে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

৪। চুল পড়া রোধে পেঁয়াজের রসঃ উচ্চ মাত্রায় সালফার থাকার কারণে পেঁয়াজের রস চুল পড়া রোধে দারুণ কার্যকরী। এটা চুলের গোঁড়ায় রক্তচলাচলের গতি বাড়ায়, মৃত লোমকূপগুলোকে জীবিত করে ফলে চুল ঘন হয়। এতে থাকা এন্টিব্যাক্ট্রিয়াল উপাদানগুলো জীবাণুর ধ্বংস করে এবং চুলের গোড়ার সংক্রামণ ভাল করে। ফলে খুব দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হয়। ১টি পেঁয়াজ রস করে চুলের গোঁড়ায় লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রসের সাথে ঘৃতকুমারীর জেল মিশিয়েও লাগাতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই ঔষধ ব্যবহার করতে হবে।

৫। এলোভেরা বা ঘৃতকুমারীঃ এলোভেরায় এনযাইম নামে জৈবরসায়নিক পদার্থ আছে যা সরাসরি চুলের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে কাজ করে। এতে থাকা ক্ষারজাতীয় রসায়নিক (Alkalizing) চুলের গোঁড়া শক্ত ও মজবুত করে সঠিক স্বাস্থ্য ফিরিয়ে  আনে। চুলের খুশকি দূর করে লোমকূপকে পুনর্জীবিত করতে এলোভেরা জেল অতুলনীয়। চুলের গোঁড়ায় ঘৃতকুমারীর রস মাখান। কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর কুসুমগরম পানি মাথা ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফলাফলের জন্য এটা সপ্তাহে ৩-৪ বার করুন। খালি পেটে ১ টেবিল চামচ ঘৃতকুমারীর রস খেতে পারেন। এটা চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনেক উপকারি।

৬। চুল ঘন করতে যষ্ঠিমধুঃ চুল পড়া বন্ধের ভেষজ ঔষধ হিসেবে যষ্ঠিমধু অনেক প্রসিদ্ধ। এটা নতুন করে চুল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং চুল ঘন করে। এটা ব্যবহারের ফলে চুলের রুক্ষভাব দূর হয় এবং চুলের গোঁড়ার ব্যাথাকে উপশম করে। ১ কাপ দুধের সাথে ১ টেবিল চামচ যষ্ঠিমধুর কুচির সাথে এক চতুর্থাংশ টেবিল চামচ জাফরান মিশিয়ে মাথায় লাগান। সারারাত রেখে দিন এবং সকালে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইবার করে এই প্যাক লাগান।

৭। রসূন তেলঃ পেঁয়াজের মত রসূনেও প্রচুর পরিমাণে সালফার রয়েছে। এ কারণে এটা চুল নতুন গজাতে এবং চুলের গোঁড়া শক্ত করতে অনেক কার্যকরী। কয়েক কোয়া রসূনের সাথে পরিমাণ মত নারিকেল তেলের মধ্যে দিয়ে গরম করে নিন। তারপর ঠান্ডা করে চুলের গোড়ায় আলতো করে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট রেখে দিন এবং পরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইবার এটা ব্যবহার করুন।

৮। বিট মূলঃ বিটমূলের রসে কার্বহাইড্রেড, প্রোটিন, পোটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি ও সি আছে। এসব পুষ্টিগুণ চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। বিটমূলের জুসের সাথে পালংশাকের রস, লেটুস পাতার রস এবং গাজরের রস মিশিয়ে মাথায় লাগালে আরো দ্রুত কার্যকরী ফলাফল পাওয়া যায়। সব রস একসাথে মিশিয়ে চুলের গোঁড়ায় তেলের মত করে লাগান এবং ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কয়েকবার এটা করুন।

৯। তিসির বীচিঃ তিসির বিচীতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা চুল পড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুল ঘন করে। এটি চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি দেহকে সুস্থ রাখার জন্য অনেক প্রয়োজনীয় একটি উপদান। চুল পড়া থামাতে ১ টেবিল চামচ তিসির বীচি এক গ্লাস পানি দিয়ে খেয়ে ফেলুন। এছাড়াও আপনি সালাদ, স্যুপের সাথে, ভর্তা করে, ইত্যাদি উপায়ে তিসির বীচি খেতে পারেন। অথবা তিসির তেল ব্যবহার করতে পারেন।

১০। ডিমঃ ডিমে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান চুল পড়া বন্ধ করতে সক্ষম। এতে উচ্চ মাত্রায় সালফার, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, আয়োডিন, জিঙ্ক এবং প্রোটিন আছে। এসব উপাদান চুল পড়া রোধ করে চুলের স্বাস্থ্য বিকাশ করে। ১টি ডিমের সাদা অংশের সাথে ১ চা চামচ জলপাই তেল ভালভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর এটা চুলের গোঁড়ায় ভাল করে মালিশ করুন। মালিশ করার পর ১০-২০ মিনিট রেখে দিন এবং সবশেষে শ্যাম্পু করে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

১১। নারিকেল তেলঃ নারিকেল তেলে উচ্চমাত্রায় প্রটিন এবং দরকারি সব ফ্যাট আছে যা চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় খুব কার্যকরী। এটা ব্যবহারে দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হবে। বিশুদ্ধ নারিকেল তেল নিয়ে চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত ভাল করে মালিশ করুন। মালিশ করার ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সাথে গোলমরিচের গুঁড়া এবং মেথির গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

(উক্ত প্রতিবেদন তৈরিতে ইন্টারনেটে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের সহায়তা নেওয়া হয়েছে)