ঢাকাWednesday , 1 September 2021

ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর পায়ের আলসার ঠেকাতে

Link Copied!

লাইফস্টাইল ডেস্ক:: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর পায়ের আলসার বা ফুট আলসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় এ সমস্যা সারিয়ে না তুললে আক্রান্ত পা পচে গিয়ে সংক্রমণ বেড়ে যায়। ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে পা কেটে ফেলতে হয়।

পরিসংখ্যান মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ জীবদ্দশায় ডায়াবেটিক ফুট আলসারে ভুগে থাকেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এ সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ফুট আলসারের মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে- গ্যাংগ্রিন, সেলুলাইটিস, ফোঁড়া ও নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস। এসব সংক্রমণে পা পচতে শুরু করলে তা কেটে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না।

নয়াদিল্লির ডায়াবেটিক ফুট কেয়ারের চিকিৎসক ডা. অমর পাল সিং সুরির মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পাঁচ জনের মধ্যে একজন ডায়াবেটিক ফুট আলসার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যাদের পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় থাকেন না।

ডায়াবেটিক ফুট আলসারের লক্ষণ

১. ত্বকের বিবর্ণতা
২. পায়ে অসাড়তা, যন্ত্রণা এবং ব্যথা
৩. পায়ে ফোসকা বা অন্যান্য ক্ষত
৪. ভারসাম্য হারানো
৫. পা থেকে দুর্গন্ধ

এসব লক্ষণ কখনও উপেক্ষা করা উচিত নয় ডায়াবেটিস রোগীর।

ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্ন

ডায়াবেটিস রোগীর অবশ্যই পায়ের যত্ন করা জরুরি। সঠিকভাবে পা ধোয়া ও পায়ের আঙুলের ভাজে ভাজে শুকনো রাখা জরুরি।

আপনি যদি পায়ে কোনো ধরনের ক্ষত লক্ষ্য করেন তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডা. সুরির মতে, যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের অবশ্যই প্রতি বছরে অন্তত একবার হলেও পায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।

ডায়াবেটিক ফুট আলসার হলে করণীয়

ডায়াবেটিক ফুট আলসার ধরা পড়ার প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করলে তা সেরে ওঠে। তবে দীর্ঘদিন এর চিকিৎসা করা না হলে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। যা পা কেটে ফেলার ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে প্রাথমিক অবস্থায় এর চিকিৎসা করা হলে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে যায়। চিকিৎসকরা সাধারণত মৃত কোষগুলো সরিয়ে ফেলে আক্রান্ত স্থানে সাময়িক ওষুধ প্রয়োগ করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিক ফুট আলসারে ভোগা প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন সংক্রমণে পা হারান। অস্ত্রোপচারে তাদের পায়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কেটে ফেলা হয়। এমন রোগীরা অস্ত্রোপচারের ৫ বছরের মধ্যেই মারা যান।

ডায়াবেটিক ফুট আলসারের চিকিৎসা

বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। ডিপিওসিএল (ডিপেরক্সোক্লোরিক অ্যাসিড) এর মতো নতুন রাসায়নিকের প্রাপ্যতা ডায়াবেটিক ফুট আলসারকে সারিয়ে তুলতে পারে। সার্বিক সচেতনতা ও নতুন চিকিৎসার মাধ্যমে, ডায়াবেটিক ফুট আলসার সারিয়ে তোলা যেতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস