ঢাকাSaturday , 30 January 2021

তাহলে কি ঈদের পরেই খুলবে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক: এইতো ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে এমন ধারণা করেছিলেন অনেকেই। খোদ শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেও এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী মার্চ মাসেও স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হতে পারে।

এদিকে মার্চ মাসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এপ্রিলে খোলা হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এপ্রিলে শুরু হচ্ছে রোজা। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর কি খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আশা করছি হয়তো আগামী মার্চ-এপ্রিল…..মার্চ মাসটা আমরা দেখবো, কারণ আমাদের দেশে মার্চ মাসেই ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস শুরু হয়েছিল। খবর বিবিসি বাংলা

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে এটা অনেকটা পরিষ্কার হওয়া যায় যে, মার্চে হয়ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই থাকছে। তাহলে সবার মাথায় ধারণা চলে আসে এপ্রিলে হয়ত খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মার্চ মাসেও যদি স্কুল না খোলে, তাহলে সেটা আরো পিছিয়ে হিসেব করলে তা বছরের মধ্যভাগ পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে?

কেননা এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হচ্ছে মুসলমানদের পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান। সাধারণ সময়ে এমনিতেই এই রমজান মাসে স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। ফলে মহামারির মধ্যে যেখানে স্কুল খোলা রাখা যাচ্ছে না, সেখানে রমজান মাসে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না, সেটা ধরেই নেয়া যায়। আর রমজান শেষে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হতে হতে পার হয়ে যাবে মে মাসের মধ্যভাগ।

শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নানান সময়ে ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও প্রত্যেক বারেই বলেছেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই গ্রহণ করবেন। যদি তাই হয়েই থাকে তাহলে হয়ত পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরই খুলছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এর আগে স্কুল কলেজগুলোতে ৩৯ পাতার গাইডলাইন পাঠিয়ে বলা হয়েছিলো ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলো প্রস্তুত করে রাখতে। যাতে যে-কোন মুহূর্তে খুলে দেয়া যেতে পারে। গাইডলাইনে সরকারের অনুমোদন পেলে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি অন্য শ্রেণিগুলোর জন্য সপ্তাহে এক বা দু’দিন ক্লাস শুরু হওয়ার কথাও বলা ছিলো।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সম্প্রতি সংসদে বলেছিলেন, ‘তারা ফেব্রুয়ারির শেষে কিংবা মার্চে স্কুল খুলতে চান। ফেব্রুয়ারিতে যদি পরিস্থিতি ভালো থাকে পরবর্তীকালে সীমিত আকারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা ভাবনা আছে।’

২১ জানুয়ারি করোনাকালীন শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা’ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন যে বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাতেও ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে ইঙ্গিত ছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর শনিবারের (৩০ জানুয়ারি) বক্তব্যের পর ধারণা পাল্টেছে সবার।

বাংলাদেশে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। পরে জুলাই থেকে অনলাইন, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিকল্প শিক্ষাদানের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা খুব একটা সাফল্য আসে নি। এর মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে আসা ও ভ্যাকসিন দেয়া শুরুর প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ স্কুলগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পাশাপাশি চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণেরও কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।

এদিকে বিবিসি বাংলা তাদের এক সংবাদে জানিয়েছে, গুগলে বাংলাদেশ থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেকেই এখন সার্চ করছেন, স্কুল কবে খুলবে ২০২১ -এই শব্দবন্ধ দিয়ে।

এই সার্চ ট্রেন্ডই বলে দেয় বাংলাদেশে মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া নিয়ে কতটা চিন্তিত। কারো চিন্তার বিষয়, খোলে না কেন? কারো চিন্তা, কেন খুলছে? অবশ্য কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন যে, ‘পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে এলে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে এবং তখন প্রয়োজন হলে নির্ধারিত ছুটিগুলো অনেক কমিয়ে দেয়া হবে।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা