ঢাকাTuesday , 26 January 2021

পুলিশে নিয়োগ ২০২১, পুলিশ কনস্টেবল ও সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

Link Copied!

আশাকরা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১ প্রকাশ হতে যাচ্ছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি/মার্চ মাসের যে কোন তারিখে পুলিশ নিয়োগ ২০২১ এর প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে সম্ভবত এবারের পুলিশ নিয়োগ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

তবে ‘চাকরির খবর পুলিশ এর বিজ্ঞপ্তি’ সবার আগে পাওয়ার জন্য আপনি আমাদের এই পোস্টটিতে কিছু দিন চোখ রাখতে পারেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা কর্তৃক বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ ২০২১ প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে আমরা এই পোস্টে বিস্তারিত শেয়ার করে দিব। সে জন্য পুলিশ নিয়োগ ২০২১ সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের সাথে থাকুন।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে চারটি পর্যায়ে পুলিশ নিয়োগ হয়ে থাকে। প্রতি বছর দুইবার এসএসসি পাশ যোগ্যতায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ হয়ে থাকে। তাছাড়া ডিগ্রি পাশ যোগ্যতায় পুলিশ সাব-ইন্সপেক্ট (SI) এবং পুলিশ সার্জেন্ট পদে বছরে একবার নিয়োগ হয়। এছাড়াও বাংলা পুলিশ সিভিল সার্ভিস (BCS) এর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে ক্যাডার পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ হয়ে থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় হতে চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়ার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক বিভিন্ন পত্র পত্রিকাসহ বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুলিশ সার্কুলার আকারে জারী করা হয়। সাধারণত পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার এক/দেড় মাস পূর্বে পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়ে থাকে। সুতরাং আপনি পুলিশ বাহিনীতে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় অনায়াসে পাবেন।

Police Job Circular 2021

এবারের পুলিশ নিয়োগ ২০২১ এ অংশগ্রহন করে যে সকল আবেদনকারী প্রাথমিকভাবে মনোনীত হবে, তারা আগামী ২০২১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে পুলিশের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে ৬ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য অংশগ্রহন করবে। যে সকল সদস্য সফলভাবে ৬ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করবে তারা ২০২১ পুলিশ বাহিনীর স্থায়ী শূন্য পদের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে যোগদান করবে।

অন্যান্য চাকরির তুলানায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর চাকরির খবর আমরা সবাই একটু বেশি খুঁজে থাকি। কারণ খুব অল্প যোগ্যতায় ভালোমানের বেতনের চাকরি হওয়ার কারনে আমাদের দেশে এখন পুলিশের চাকরির কদর অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়ে পেয়েছে। তাছাড়া পুলিশ বাহিনীর চাকরির মাধ্যমে মানব সেবায় কাজে নিজেকে ব্রত করা যায় বিধায় সবাই এখন পুলিশে জয়েন করতে পছন্দ করে।

পুলিশে চাকরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১

এ পর্যন্ত আমরা যত দূর জানতে পেরেছি তাতে মনে হয়েছে যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের যেকোন তারিখের মধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক কনস্টেবল পদে বিশাল জনবল নিয়োগ করার জন্য পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১ প্রকাশ করা হবে। পুলিশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পাশপাশি বিভিন্ন দৈনিক পত্র প্রত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।

যোগ্যতা: বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল হতে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে এসএসসি পাশ হতে হয়। সেই সাথে কিছু শারিরীক যোগ্যতা রয়েছে যেগুলো থাকলে আপনি খুব সহজে পুলিশের চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন।

বয়স: সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তান বা অন্যান্য কোটার প্রার্থীদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা/ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

শারীরিক মাপ: সাধারণ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তান ও অন্যান্য কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, বুক মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি হতে হবে। নারী প্রার্থীদের উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি।

মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা/ মুক্তিযোদ্ধার পুরুষ সন্তানের ক্ষেত্রে উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় হতে হবে ৩১ ইঞ্চি।

উপজাতীয় পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি থাকতে হবে।

সব প্রার্থীদের ওজন বডি মাস ইনডেক্স অনুযায়ী বয়স ও উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা: এসএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কমপক্ষে জিপিএ ২.৫ বা সমমান হতে হবে। অবিবাহিত হতে হবে এবং অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।

শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা: প্রাথমিকভাবে মনোনিত হওয়ার জন্য প্রার্থীকে প্রথমে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত স্থান ও সময়ে শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। শারীরিক মাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান এবং লিখিত পরীক্ষার স্থান ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে।

লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হবে। এই লিখিত পরীক্ষা ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের হবে। কমপক্ষে ৪৫% নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীগণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হবেন। তবে যারা মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকবে, তাদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থীকে কেবলমাত্র পরবর্তী পরীক্ষায় মনোনীত করা হবে।

মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্দিষ্ট তারিখে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এখানেও কমপক্ষে ৪৫% নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীরা উত্তীর্ণ বলে গণ্য হবেন। সবগুলো পরীক্ষায় প্রাপ্ত নাম্বারের সমন্বয়ে যারা শীর্ষে থাকবে তাদের মধ্যে থেকে চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে।

মেডিকেল ফিটনেস যাচাই: সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে যারা চুড়ান্তভাবে মনোনিত হবে, তাদেরকে শারিরীক কোন সমস্যা আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য একটি মেডিকেল টেস্ট হবে। এই মেডিকেল টেস্টে সাধারণত রক্ত পরীক্ষ, এইচআইভি টেস্ট, ডোভ টেস্ট বা মাদকাশক্তি সহ আরো কিছু পরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল ফিটনেস যাচাই করার পর যারা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রামান করতে পারবে তাদেরকে ট্রেনিং করার জন্য এপয়নমেন্ট লেটার দেওয়া হবে।

বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা: প্রশিক্ষণ শেষ করার পর প্রার্থীদের কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ করা হয়। একজন কনস্টেবল জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ অনুযায়ী ৯ হাজার ৯৫ টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া দুই বছর শিক্ষানবিসকাল সফলভাবে শেষ করার পর চাকরি স্থায়ী হলে বিনা মূল্যে পোসাকসামগ্রী, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসাসুবিধা, রেশনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন পুলিশ কনস্টেবল ছয় বছর চাকরি করার পর বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি পেতে পারেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যাওয়ার সুযোগ আসতে পারে।


Police SI job circular 2021

বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ ট্রেনিং সেন্টার বর্তমানে খালি পড়ে রয়েছে বিধায় ২০২১ সালের এসআই নিয়োগ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। আমাদের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে চলতি মাসে বাংলাদেশ পুলিশের এসআই পদে কোন নিয়োগ হচ্ছে না। তবে এপ্রিল মাসের শুরু দিকে পুলিশের এসআই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের যে কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ন্যুনতম স্নাতক পাশ ও কম্পিউটারে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীগণ পুলিশের বহিরাগত ক্যাডেট ‘সাব-ইন্সপেক্টর’ (এসআই) পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদেরকে আবেদন ফরম পূরণ করে নিজ নিজ রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে জমা দিতে হয়।

আবেদনের যোগ্যতা: সাব-ইন্সপেক্টর (এস আই) পদে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হবে।পাশাপাশি কম্পিউটারে অভিজ্ঞ হতে হবে। প্রার্থীদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবিবাহিত হতে হবে। কোন বিবাহিত প্রার্থী বিয়ে গোপন রেখে অংশগ্রহন করলে পরবর্তীতে আইনি জঠিলতায় পড়তে হবে।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষ প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে। নারী প্রার্থীদের জন্য সব কোটায় উচ্চতা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি হতে হবে। প্রার্থীদের ওজন উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

বয়স: সাধারণ এবং অন্যান্য কোটার আগ্রহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৯ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসসীমা ১৯ থেকে ৩২ বছর।

বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ

শারীরিকভাবে বাছাই: আগ্রহী প্রার্থীদের আগে শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীরা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডিআইজির কাছ থেকে আবেদন ফরম কিনতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সরাসরি শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

বেতন: নিয়োগপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) প্রতি মাসে বেতন পাবেন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

সুযোগ-সুবিধা: পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টরের সুযোগ-সুবিধা কেমন? জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর শাহনেওয়াজ বাপ্পী বলেন, পুলিশের এসআই পদটিকে সেকেন্ড ক্লাস গেজেটেড অফিসার হিসেবে ধরা হয়। এসআইকে পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড বলা যায়। কারণ তাঁরা তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করেন।

নির্বাচিত হওয়ার পর এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ চলাকালে মাসিক এক হাজার টাকা ভাতার পাশাপাশি বিনা খরচে খাওয়া, বাসস্থান, ইউনিফর্ম দেওয়া হয়।

একজন সাব-ইন্সপেক্টর সরকারি বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী দশম গ্রেডের বেসিক ১৬০০০ থেকে ৩৮৬৪০ টাকা হারে বেতন পান।

এ ছাড়া বিনা মূল্যে পোশাক, রেশন, ঝুঁকিভাতা, চিকিত্সাভাতা, যাতায়াতভাতা, মামলা তদন্ত ভাতা মিলিয়ে প্রথম দিকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো মাসিক বেতন পান।

এ ছাড়া বছরে পহেলা বৈশাখ, ঈদ কিংবা পূজায় উত্সবভাতা পান। বেতন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে বিদেশে মিশনে যাওয়ারও সুযোগ মিলতে পারে।

জাতিসংঘের ফরমড পুলিশ ইউনিটের (এফপিইউ) মিশনে গেলে বছরে ১৫-২০ লাখ টাকার মতো ভাতা পাওয়া যায়। সাব-ইন্সপেক্টর থেকে পদোন্নতি পেয়ে অ্যাডিশনাল এসপি বা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হওয়া যায়।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি: লিখিত পরীক্ষা কয়েকটি বিষয়ের ওপর হয়। ক) ইংরেজি ও বাংলা—রচনা, কম্পোজিশনে ১০০ নম্বর।

খ) সাধারণ জ্ঞান ও পাটিগণিতে ১০০। গ) মনস্তত্ত্ব ২৫। সব মিলিয়ে ২২৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষা হয় ৩ দিনে।

লিখিত পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন হয়, জানতে চাইলে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার সাব-ইন্সপেক্টর (প্রবেশনারি) অশোক কুমার সরকার বলেন, ‘বাংলায় ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। সাধারণত একটি রচনায় ১৫ নম্বর, ভাবসম্প্রসারণে ১০, এককথায় প্রকাশে ৫, অর্থসহ বাক্যরচনায় ৫ ও বাংলা অনুবাদে ১৫ নম্বর।

ইংরেজিতেও ৫০ নম্বর। Essay 15 marks, Appropriate preposition 5, Idioms and Pharase 5, Letter/Application 10, Translations 15। বাংলা ও ইংরেজি উভয় বিষয়েই অনুবাদে তুলনামূলক বেশি নম্বর বরাদ্দ, তাই অন্যান্য টপিকের চেয়ে অনুবাদে বাড়তি জোর দিতে হবে। এ ছাড়া ইংরেজির প্রস্তুতির জন্য পিসি দাশের গ্রামার বইটি পড়া যেতে পারে।

সাধারণ জ্ঞানের জন্য বরাদ্দ ৫০ নম্বর। এ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, টীকা ও রচনা লিখতে হয়। এ অংশের প্রস্তুতির জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, পুলিশবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন টপিক জানা থাকতে হবে। বাজারের মানসম্মত গাইড বইয়ের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোও নিয়মিত পড়তে হবে।

পাটিগণিতে ৫০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে। এখানে গসাগু ও লসাগু, ভগ্নাংশ, সরলীকরণ, ঐকিক, গড়, অনুপাত ও সমানুপাত, শতকরা ও লাভক্ষতি, সুদকষা, পরিমাপ, ক্ষেত্র ইত্যাদি থেকে সাধারণত প্রশ্ন আসে। গণিতের প্রস্তুতির জন্য সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বই অনুশীলন করলে প্রস্তুতি পাকাপোক্ত হবে।

মনস্তত্ত্ব দক্ষতায় ৫০ নম্বর বরাদ্দ। এ অংশে সাধারণত ভাষা ও সাহিত্য, সাদৃশ্য বিচার, সাংকেতিক বিন্যাস বা পুনর্বিন্যাস, সম্পর্ক ও বিশেষত্ব নির্ণয়, অসম্ভাব্যতা বিচার, বর্ণবিন্যাস ও শব্দ গঠন, গাণিতিক যুক্তি, জ্যামিতির মৌলিক বিষয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হয়। মনস্তত্ত্বের প্রস্তুতির জন্য বাজারের ‘পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার গাইড’ বইগুলো অনুশীলন করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ইউটিউব থেকে মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতার বিষয়গুলো অনুশীলন করলে কাজে লাগবে।

বাংলাদেশ পুলিশ নিয়োগ সার্কুলার ২০২১

মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীরাই শুধু মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর শাহনেওয়াজ বাপ্পী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস, সংবিধান ও পুলিশ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সংস্থা, জাতিসংঘ সম্পর্কে সাধারণত প্রশ্ন থাকে। ইংরেজিতে দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অনুবাদও জিজ্ঞেস করা হয়। এ ছাড়া প্রার্থীকে নিজ জেলার খুঁটিনাটি নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে, যেমন—নিজ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, তাদের কর্মজীবন, দর্শনীয় স্থান (সেখানে কী কী আছে…) ইত্যাদি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিজ জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঘটনা সম্পর্কে জানা, যেমন—কোন কোন স্থানে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, নিজ পরিবারে কোনো মুক্তিযোদ্ধা আছেন কি না, কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ইত্যাদি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যত বেশি জানাশোনা থাকবে, মৌখিকে ভালো করার সম্ভাবনা তত বেশি। বঙ্গবন্ধুর জন্ম থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা (কিভাবে, কখন দিয়েছিলেন), মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কারাগারে দিনযাপন, স্বাধীন হওয়ার পর দেশে প্রত্যাবর্তন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠন থেকে ১৫ই আগস্টের কালো অধ্যায় পর্যন্ত সব তথ্য জানতে হবে।

প্রয়োজনে নোট করে রাখতে পারেন, যাতে মৌখিকের আগের দিনগুলোতে দেখে যেতে পারেন। জাতির পিতার জীবনী জানলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনেকটাই জানা হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রার্থী যে বিষয়ে স্নাতক পড়েছেন, সে বিষয়ের বেসিক ও খুঁটিনাটি জানা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিআর: সব শেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিআর। মৌখিক পরীক্ষায় নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন (ভিআর) ফরম পূরণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত যেসব প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ও পুলিশ ভেরিফিকেশনে (ভিআর) ঠিকঠাক হবেন, তাঁদেরই সারদায় (রাজশাহী) এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। সফলভাবে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ‘শিক্ষানবিশ সাব-ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয়। পরে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে চাকরি স্থায়ী হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত। তবে পাঠকরা উক্ত পোস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারবে।