ঢাকাWednesday , 23 December 2020

সবকিছুর সমাধান কি বিয়ে?

প্রমা ইসরাত
December 23, 2020 11:41 am
Link Copied!

বিবাহ বিচ্ছেদ

সবকিছুর সমাধান কি বিয়ে?

 

বিবা’হ বিচ্ছে’দের মু’ল কার’ণ কী? কৌ’তুক উত্ত’র হ’চ্ছে, বি’বাহ বিচ্ছে’দের মূ’ল কা’রণ মূ’লত বিয়ে।
সম্প্র’তি দৈনি’ক প্রথ’ম আ’লো’র প্রথ’ম পা’তায়, বি’বাহ বিচ্ছে’দ নিয়ে করা একটি ফিচা’র দেখলা’ম, সেখা’নে বি’বাহ বি’চ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জান’তে পেরে’ছি। মহা’মারী করোনা’কালে, পারিবা’রিক কলহ, সহিংস’তা যেমন বেড়েছে, তেম’নি বেড়ে’ছে বিয়ে বি’চ্ছেদ।

প্র’থম আ’লোর তথ্য’সূত্র অনু’যায়ী, ঢা’কায় গড়ে দিনে ৩৯ টি তা’লাক হচ্ছে, এবং চট্টগ্রা’মে হচ্ছে ১৮ টি তালা’ক। এবং ২০১৯ সা’লে প্রতি মাসে গড়ে তা’লাক হয়েছে ৯২০ টি। তথ্যে এটা’ও উল্লে’খ করা হয়ে’ছে যে ৭০ শ’তাংশ তা’লাকের আবে’দন আস’ছে স্ত্রী’র পক্ষ থে’কে।

বি’চ্ছেদের কার’ণের দিকে তাকা’লে না’রী এবং পুরু’ষের কার’ণগুলো ভিন্ন’ভিন্ন। যে’মন নারী’দের কার’ণগুলো বেশির’ভাগ ক্ষেত্রে, যৌতু’কের দাবী’তে নির্যা’তন, স্বামীর সন্দে’হবাতিক মনোভা’ব, স্বামী’র অন্য নারীর স’ঙ্গে সম্প’র্ক, মাদ’কাসক্তি। আর পুরুষদের ক্ষে’ত্রে, বেশির”ভাগ কা’রণ দে’খা যাচ্ছে, স্ত্রীর বদ’মেজাজ, সংসা’রের প্রতি উদা’সীনতা, স’ন্তান না হওয়া ও অবা’ধ্য হওয়া। এ’কটু খে’য়াল কর’লে দে’খা যাবে, স্ত্রী’দের তালা’ক দেয়া’র জ’ন্য, বেশি’রভাগ পুরুষ’দের দা’বী ক’রা কারণগু’লো অতো গুরু’তর না। মানে নারীদের বিবাহবি’চ্ছেদের ক্ষে’ত্রে, স্বামী’দের প্রতি আন’ত অভিযো’গগুলো বেশি’রভাগই ফৌ’জদারি অপরা’ধের পর্যা’য়ে পড়ে, কিন্তু পুরুষ’দের ক্ষেত্রে, বিবা’হ বিচ্ছে’দের জন্য স্ত্রীর প্র’তি আনা অভি’যোগ মূ’লত চারি’ত্রিক বৈশি’ষ্ট্য, বা সন্তা’ন জ’ন্ম না দি’তে পারা, যা ফৌজদারি অপরাধ না। যেমন, স্বামীর বদমে’জাজের জন্য, কোন স্ত্রী’কে সচরাচর তার স্বামী’কে তালা’ক দিতে দেখা যা:য় না।

বাংলা’দেশের স্ত্রী’রা বদমে’জাজী স্বামী’র হাতে শারী’রিক আঘা’তপ্রাপ্ত হ’ওয়া পর্যন্ত, বদমে’জাজ সহ্য’ ক’রেন, এবং স’হ্য করে করে বিয়ে’টা টিকি’য়ে রাখা’র চে’ষ্টা করে’ন।
শারীরিক ও মানসি’ক নির্যাত’নের ক্ষেত্রে অ’নেক পুরু’ষও নির্যাত’নের শি’কার হয়ে থাকেন। কিন্তু  সামা’জিক চাপে তারাও প্রকা’শ করে’ন না পু’রো সত্য, পা’ছে লোকে তা’কে তার পুরু’ষত্ব নিয়ে স’ন্দেহ করে!

বিয়ে বিচ্ছে’দের কারণ’গুলো নিয়ে অনে’কে মতা’মত দিলেও, কে’উ এখনো এই বি’ষয়ে আ’লোচনা কর’ছেন না যে আমা’দের সমাজে, কেন স:কল কিছু’র সমা’ধান হিসে’বে বিয়ে’কে বে’ছে নেয়া হয়?

ক’রোনাকালে যেম’ন বিবাহ’বিচ্ছেদ বেড়ে’ছে, ঠি’ক তে’মনি প্র’চুর বি’য়ে হয়ে’ছে।

না’রীদের নিরাপ’ত্তার জন্য, এই সমা’জের বেশি’রভাগ মানু’ষই মনে করে যে, বি’য়ে স’বচেয়ে কার্যক’রী ও ভালো সমা’ধান। একটি বিয়ে’র মাধ্য’মে, সামা’জিক ও অর্থনৈ’তিক নি,’রাপত্তা নি:শ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। সা:মাজিক ও পারিবা’রিক চাপে’, অনে’কে বা’ধ্য হয়ে বি:য়ে করেন, বা সন্তান’কে অ’ভিভাব’করা অ:নেকটা জো’র করে বিয়ে’র সিদ্ধা’ন্ত নি’তে বা’ধ্য করে থাকে’ন।

জীব’ন সঙ্গী বাছাই’য়ের ক্ষেত্রেও, একটা মান’সিক, অর্থনৈ’তিক ও সামা’জিক চাপ রয়েছে। আমাদের সংস্কৃতিতে, বিয়েটা যতটুকু না ব্যক্তি’তে ব্যক্তি:তে ঘটে, তার চাই:তে বেশি ঘটে থাকে পরি’বারের সা’থে পরিবা’রের। তাই ব্য’ক্তিগত আশা আকা’ঙ্ক্ষা, কৈশো’র থে’কে বি’য়েকে’ন্দ্রিক লা’লিত স্ব’প্ন ও কল্প’না এবং পরি’বার ও আত্মী’য়-স্বজ’নের না’নান চাও’য়া পাও’য়া সব কি’ছু মিলি’য়ে, বিয়ে এবং বিয়ে সম্প’র্কিত যাবতী’য় বি’ষয় এক’টা বড় রক’মের মানসি’ক চাপ তৈ’রি করে দম্প’তির ও’পর।

কৈ’শোর থেকে অনে’কেই মানসি’কভাবে বিয়ে সম্প’র্কে একটা স্বপ্ন’জাল বুনে চলে’ন, এক’জন আরে’কজ’নের কা’ছে নানা’ন আ’শা-আকা’ঙ্ক্ষা ও দা’বী নিয়ে চলেন, বাস্তব’তার সা’থে সেই স্বপ্নে’র মি’ল না পেয়ে, আ’শাহত হন।

পিতৃ’তা’ন্ত্রিক সমাজ’ব্যবস্থা সবস’ময়ই না’রীর শা’রী’রিক এবং মান:সি’ক প্রয়ো’জন’কে অব’হেলা ক’রে এসে’ছে। যৌন’জীব’ন সম্প’র্কে অজ্ঞা’নতা এবং যৌন’জীবনকে গুরু’ত্ব না দেয়া’টাও বিবা’হ বিচ্ছে’দের অন্য’তম কারণ। নারী’দের হরমো’নাল ইস্যু, মিন্স’ট্রুয়েশনের সম’য় চ’লমান মান’সিক অব’স্থা সম্প’র্কে বেশি’রভাগ পুরু’ষেরই ধা’রণা থা’কে না।

সন্তা’ন জ’ন্ম দেয়া’র পর সিং’হভাগ নারী’ই স্বা’মীর কাছ থে’কে যত’টুকু সহ’যোগিতা প্রয়ো’জন তা পা’ন না। সংসা’রের কা’জের ক্ষে’ত্রে নারী’র উপ’র এক’টা বাড়’তি চাপ থাকে। সে’ক্ষে’ত্রে জে’ন্ডা’র শ্র’ম বি’ভা’জ’নে চল’মান বৈষ’ম্য দাম্প’ত্য কল’হ বাড়ি’য়ে দে’য়।

বি’য়ের বয়’স নারী’দের ক্ষে’ত্রে ১৮ এ’বং পুরু’ষ’দের ক্ষেত্রে ২১ নির্ধা’রিত, কি’ন্তু খে’য়া’ল করলে দেখা যায়, শারী’রি’ক বয়’সে অনেকে পরি’পক্ক হলেও মান’সিক বয়’সে প্রা’প্তমন’স্ক হন না অনে’কে। বিয়ে, বিয়ে সম্প’র্কিত বাস্তব ধা’রণা, সম্প’র্কের দা’য় দায়ি’ত্ব ও মূল্য’বোধ স’ম্পর্কে উপ’লব্ধি আসা’র আগে’ই বি’য়ের পিঁ’ড়িতে বসে যান।

আ’মাদের এই স’মাজে বি’য়ে করা এ’বং তা টি’কিয়ে রাখার বিষয়টি’কে দেখা হয় যোগ্য’তা হিসে’বে। আর অ’বিবা’হিত থাকা বা বিয়ে বিচ্ছে’দ হয়ে যা’ওয়াটা’কে দে’খা হয় অযো’গ্যতা হিসেবে। সমা’জের চোখে নিজে’দের যো’গ্য প্র’মাণ কর’তে চা’ওয়ার এই দৌঁ’ড়ে অনে’কেই বে’ছে নেন অ’সুখী জী’বন। ব্য’ক্তি নিজে য’দি মানসি’কভাবে অ’সুখী থা’কেন, তবে তার প’ক্ষে অন্য’কে সুখে রা’খার দায়ি’ত্ব নেয়া’টা অস’ম্ভব হয়ে পড়ে।

সব’চেয়ে গুরু’ত্বপূর্ণ ভূমি’কা পাল’ন করে পরি’বার। বিয়ে’র মতো গুরু’ত্বপূর্ণ সি’দ্ধান্ত, এবং ন’তুন দ’ম্পতিকে মানি’য়ে নিতে, সাহায্য করার ক্ষেত্রে, পরিবা’রের ভূমি’কা অপ’রিহার্য।

বিয়ে পর’বর্তী দাম্প’ত্য কলহ নিরস’নের ক্ষে’ত্রে যেমন সা’ইকো সো’শ্যাল কাউন্সে’লিং প্রয়ো’জন, তেম’নি বিয়ের আগেও প্রি ম্যারি’জ কাউন্সে’লিং প্রয়ো’জন। বিয়ে এবং বিয়ে বিচ্ছে’দের ক্ষেত্রে, আই’নগতভাবে এই প্রি ম্যা’রিজ ও ম্যারিজ কাউন্সেলিং’য়ের বিষয়’টি যদি অন্ত’র্ভুক্ত করা যায়, তাহ’লে বি’বাহ বিচ্ছে’দের সিদ্ধা’ন্ত নেয়া’র ক্ষে’ত্রে মানু’ষ আ’রো স’চেতন ও বিবে’চক হ’বেন।

লে’খক: আইন’জীবী ও মানবাধি’কারকর্মী