ঢাকাThursday , 3 December 2020

সাংবাদিক মৃত্যুঞ্জয় সরদার সত্যের প্রতীক সততা তার ধর্ম

Link Copied!

সাংবাদিক মৃত্যুঞ্জয় সরদার সত্যের প্রতীক সততা তার ধর্ম

আজ সে খুব অসহায় দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে। তবে তিনি ঈশ্বর বিশ্বাসী ঈশ্বর এর উপরে ভরসা করে, তার যেন আজও জীবন চলছে।সর্বদাই তিনি সত্যের প্রতীক, সৎ মনোভাব তার জীবনের প্রতিটা অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।বহু সাধনা করে দিন সিদ্ধি লাভ করেছে লেখালেখির জীবনটা। ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি লিখে চলেছে বিশ্রাম নেয় না। এভাবে কি মানুষ পারে, এদিকে তিনি অসুস্থ তবুও মনের জোরে কাজ করে চলেছে।এই মানুষটার প্রতি আজ অবিচার করে চলেছে ওই অঞ্চলে স্থানীয় নেতারা। সত্যের ভাত নেই এ কথাটা যেন চিরন্তন সত্যের পথে আজও বিরাজমান।অপরাধ না করেও সমাজের বুকে খারাপ আখ্যা দিয়ে, নেতারা নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করে। কি ছিলো তার অপরাধ সে কথা স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে না।

কিন্তু সমাজের স্বার্থনেশি সমাজবিরোধী সমাজের মাথারা সর্বদায় সাদাসিধে নিষ্ঠাবান ত্যাগী ছেলেটাকে খারাপ ছেলে বলে সার্টিফিকেট দিতে থাকে।কী তাঁর অপরাধ জানেন সে কোন রাজনৈতিক দলের ধার ধারে না,আর এইসব স্বার্থবাদী সমাজের মাথারা নিজের স্বার্থের জন্য বারবার দল পরিবর্তন করে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অত্যাচার ,শৈশব থেকে দেখতে দেখতে বড় হয়েছে সারাবিশ্বে তথা বাংলার গর্ভের সন্তান মৃত্যুঞ্জয় সরদার । সেই অত্যাচারের খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে ,তাকে সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে দেয় না  সমাজবিরোধীরা।মৃত্যুঞ্জয় সরদার শৈশব জীবন থেকে অত্যাচারিত হয়েছে আজও তার উপরে অত্যাচার অবিচার অব্যাহত।অত্যাচার সহ্য করতে করতেই মৃত্যুঞ্জয় সরদারের জ্যাঠামশাই দুখিরাম সরদার অকালে জীবনটা দিতে হয়েছে। এক অজানা শক্তি মৃত্যুঞ্জয় সরদারের জ্যাঠামশাই কে খুন করে দিয়েছিল।তবে এতটা মৃত্যুঞ্জয় সরদারের পরিবারের সকল সদস্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল , জীবন বাঁচানোর ভয়।

দুষ্কৃতীদের চাপের সমস্ত আত্তাচার আজও মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। প্রশাসনকে অভিযুক্ত করার মতন সাহস দেখাতে পারেনা।মৃত্যুঞ্জয় সর্দারের পরিবারের উপর অত্যাচার অবিচার অনাচার হলে প্রশাসনকে জানাতে পারবে না, প্রশাসনকে জানালে তার মৃত্যু অনিবার্য।কখন কিভাবে কোথায় যে মৃত্যুঞ্জয় সরদার সহ তার পরিবারের সকল সদস্যকে মেরে দেয়া হবে তা অংকে মেলানো যাবে না।উদাহরণস্বরূপ যদি বলি মৃত্যুঞ্জয় সত্তার এর পরিস্থিতি এতটা ভয়ঙ্কর যোদ্ধার জমিদার পরিবারের ছেলে হলেও আজ তারা খুব অসহায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিগত দিনের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক ছিল এইসব তার পরিবার। বিরহী ইতিহাস লিখলে হয়তো রামায়ণ ও মহাভারত পরিনিতি হবে।তবে এখনো যে বাকি মৃত্যুঞ্জয় বাবুর অপরাধ , তা গ্রামের মানুষ সঠিকভাবে  সামনে বলতে পারেনা।আদবি মৃত্যুঞ্জয় সরদার তার পরিবারের মতো নিরীহ ফ্যামিলি এই গ্রামে নেই।তাই দীর্ঘ বছর ধরে মৃত্যুঞ্জয়ের পূর্বপুরুষ ও মৃত্যুঞ্জয় এর উপরে আজও অত্যাচার অব্যাহত রয়েছে।মৃত্যুঞ্জয় সরদারের সপরিবারে জীবন-জীবিকা করত একটি মৎস্য চাষের ভেরির উপরে মাছ চাষ করে।সেই ভেরি টা জবর দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সমাজবিরোধীরা ।এই এলাকার সমস্ত ভেড়ির মালিক নদী থেকে নোনাজল ঢুকিয়ে মাছ চাষ করে, অথচ দীর্ঘবছর এই পরিবারের ভেড়িতে নোনা ঢুকিতে দেওয়া হয় না। জল নিকাশি রাস্তার জবর দখল করে নিয়েছে। মাছ চাষ করে তার জীবন জীবিকা নির্বাহ করাটা বড় দায় হয়ে গেছে।

তাই পল্টি ফার্ম করে কোন রকম তাদের জীবন-জীবিকা রুটি রোজগার জোগাড় করছে, অসহায় অবস্থার মধ্যে।এই এলাকায় যেকোনোভাবে মৃত্যুঞ্জয় সরদারকে সুকৌশলে মেরে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সমাজবিরোধীরা।পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে মৃত্যুঞ্জয় সরদারকে এককথায় চেনার পরেও ,তার ওপরে অত্যাচার আজও অব্যাহত।কোন এক শক্তির কাছে পুলিশ যেন নিরুপায় হয়ে মৃত্যুঞ্জয় কে মন খুলে সাহায্য করতে পারে না।মৃত্যুঞ্জয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে তার সমন্দে যতোটুকু জানতে পেরেছি, আজ আমাদের মাধ্যমে সমাজের কাছে জানাতে চায় তার লেখার তথ্য দিয়ে।

মৃত্যুঞ্জয়  সরদার ছোট থেকে বড় হয়েছিলাম এক রাজনৈতিক পরিবারের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এর বাড়ি থেকে।  মৃত্যুঞ্জয় জ্যাঠামশাই দুখিরাম সরদার কমিউনিস্টের নেতা ছিলেন। কংগ্রেস সরকার সঙ্গে লড়াই করে হারিয়ে দিয়েছিলেন,ক্যানিং দু’নম্বর ব্লকের কংগ্রেসের প্রতিনিধি কে,এই লড়াইয়ে সর্বদায় ছায়া সঙ্গিনী হয়ে সঙ্গে ছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ের  পিতা লালু সরদার।এনাদের অনেক সাঙ্গোপাঙ্গ ছিল, ছোটবেলায় মৃত্যুঞ্জয় দেখেছেন তার বাড়িতে বিশিষ্ট বিশিষ্ট নেতাদের আনাগোনা ছিল ,পশ্চিমবাংলায় যারা দীর্ঘদিন রাজত্ব করেছে  সেই বাম সরকারের নেতৃত্বে বড় বড় নেতারা মৃত্যুঞ্জয় সরদারের বাড়িতে আনাগোনা ছিল। মৃত্যুঞ্জয় সরদারের সপরিবারে বাংলার ভূমিপুত্র।মৃত্যুঞ্জয় সরদার এর জন্মের আগে থেকে তার পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। আজ তার পরিবার কোনভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। ১৯৮৬ সালে ২ অক্টোবর মৃত্যুঞ্জয় সরদারের জন্ম হয় ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের হেদিয়া গ্রামে।

মৃত্যুঞ্জয় সরদার ছোটবেলায় সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো করার মতন পরিস্থিতিতে জন্ম নিয়েছিল।কিন্তু রাজনৈতিক অত্যাচারে এমন ভাবে সে পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে, আজ তারা অসহায় ও অনাহারে দীর্ঘদিন ও জীবনযাপন করেছে । তবে সেকথা গ্রাম গঞ্জের লোকে বিশ্বাস হয়না।কেন এই পরিবার তো অনাহারে থাকে আর পরিবার ছিল না। কিসের কারণে এতই বা তাদের উপরে অত্যাচার অবিচার অনাচার চলছে।মৃত্যুঞ্জয় সরদার ছোটবেলা থেকে দেখেছে, তার পরিবারকে শেষ করে দিচ্ছে সিপিএমের লোকজনরা। যে দলের জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের বাবা ও জ্যাঠামশাই এত কিছু করল ,সেই দলের লোকেরা মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবারের উপর অত্যাচার করল। মৃত্যুঞ্জয়ের সরদার এর জীবনের অভিজ্ঞতা জেনে নিন। তিনি নিজে যা দেখতে দেখতে বড় হয়েছে, এ কথাগুলো তার লেখার তথ্য থেকে বেরিয়ে আসছে। আমার বাবা , জ্যাঠা, আর মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিল পার্টির লোকজন । তখন আমি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। বাবা ও জেলে জ্যাঠামশাই ও জেলে, আমাদের পাশে কেউ নেই, আমি বাড়ির বড় ছেলে। আমার মা-বাবা কোনদিন থানার মুখ দেখেনি, কোন কিছুই জানতো না সেভাবে আমার যেটা রাজনীতিবিদ ছিল তিনি সমস্ত কিছু পরিচালনা করতেন। জ্যাঠা মশাই ও বাবার জেলে থাকাকালীন আমি প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছিলাম, কিভাবে জ্যাঠা ও বাবাকে ছাড়াবো সেই থেকে শুরু হয়ে যায় আমার জীবনের পথ চলা।চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি সেই সময় আমার মাকে সঙ্গে নিয়ে, আর পাড়ার একজনকে নিয়ে আমি আলিপুর কোটে হাজির হলাম। বাবা ও জ্যাঠা মশাইকে জামিনে মুক্তি করানোর জন্য। সেই থেকে শুরু হলো কোডের বিষয় জানা। এরপর দেখেছি একটার পর একটা অত্যাচার শুরু করল রাজনৈতিক নেতারা।

আমি বাবা-মাকে এবং জ্যাঠামশাই কে জামিনে মুক্ত করেছি বলে, আমাকে সহ্য করতে পারলো না রাজনৈতিক নেতারা।ছোট থেকে আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করল লোকাল রাজনৈতিক নেতারা যারা সিপিএম করতো সেই সময়ে। বহু দুঃখ কষ্টের মধ্যে কোনরকমে আমি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলাম।রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটা খারাপ এত অত্যাচার বাড়িতে থাকার মত পরিস্থিতি ছিলো না, পড়াশোনা বন্ধ করে কলকাতায় চলে আসতে বাধ্য হতে হয়েছিল। সেই সময় আমার দিদির বিয়ে হয়ে যায়। আমরা তিন ভাইবোন , আমার জ্যাঠা মশাই এর কোন ছেলে ছিল না কেউ ছিলনা। আমার জ্যাঠা মশাই আমাকেই মানুষ করেছিল, এসব কথা যাক আসল কথায় ফিরে আসি। আমার জীবনের ইতিহাস, সেই থেকে শুরু হয় আমার জীবনের চাওয়া-পাওয়ার কিছু বিষয়। আমি খুব হতাশ ভেঙে পড়েছিলাম কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সেই সময়ে আমি কম্পিউটার ইনফরমেশন টেকনোলজি ডিপ্লোমা কোর্স করি। এই কোর্স করতে করতে শংকর বিশ্বাস সিনেমা ফাইটার গ্রুপে ছিলেন তার সাথে আলাপ হয়ে যায়। তারার সাথে যোগাযোগ রাখতে রাখতে আমি সিনেমা জগতের ফাইট শিখে ফেলি, শংকর ছিলেন আমার সিনেমা জগতের প্রথম গুরু।সংকর বিশ্বাসের হাত ধরে আমি টালিগঞ্জ পাড়ায় বিভিন্ন স্টুডিও ঘুরে বেড়ায় সেই সালটি ছিল ২০০১ সাল। কম্পিউটারের ডিপ্লোমা কোর্স শেষ আর সিনেমা জগতে প্রবেশ শুরু হল আমার জীবনে।

আমি অনেক ধারাবাহিক এতে ছোট ছোট ক্যারেক্টারের অভিনয় করেছি, সোনার হরিণ, ইন্দুবালা। ও সিনেমা জগতে বারুদ রাম লক্ষণ, প্রেমী ,রাস্তার মতন বইতে আমি ডেমি কাজ করেছিলাম।অভিনয় আর ডিরেকশন শেখা শুরু করি দূর্গা ভট্টাচার্য্য কাজ থেকে, অভিনেত্রী মাধুরী চ্যাটার্জির স্বামী অনেকের চেনা দুর্গা ভট্টাচার্য। তিনি বিদেশি অস্কারপ্রাপ্ত ডিরেক্টরের । প্রতারক বলে একটি সিনেমার আমাকে মূল চরিত্র দেওয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছিল,এই জগতের বহুৎ দালাল আছে, আমি তো সহজ সরল গ্রামের ছেলে ছিলাম ,যে যা বলতো সেটাই বিশ্বাস করে ফেলতাম।অভিনয় তো আর করা হলোনা টালিগঞ্জ পাড়ায় স্কুল সার্টিফিকেট সহ টাকা-পয়সা সব কিছু ছেড়ে বিপদগ্রস্থ অবস্থায় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। হরিদেবপুর পুলিশ ফাঁড়ি আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করিয়ে বাড়ি ফিরিয়েছিলেন।পুলিশ বলে দিয়েছিল কোনদিন যদি বেঁচে থাকিস আর তালিগঞ্জ পাড়ায় আসবি না, জদি আসিস তাহলে তুই খুন হয়ে যেতে পারিস। সে সময় ও আমি লিখতে পারতাম আমার প্রচুর ছোট গল্প নিয়ে বিভিন্ন শর্ট ফিল্ম হয়েছিল, আর সেখান থেকেও আমার নাম লেখক হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছিলাম সে নিয়ে যতসব দুর্ঘটনা ঘটে যায়। জীবনে চলে আসে আমার হতাশায় বাড়ি ফিরে আসি কলকাতা ছেড়ে, কি করবো ভেবে উঠতে পারছি না। বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে বছরের-পর-বছর ঘুরেছি আমার কথা যেন, কেউ এক কলম কাগজে লেখে কিন্তু কেউ আমার জন্য একটা শব্দ খরচা করল না লেখা তো দূরের কথা। আমি তখন খুব হতাশ, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না কি করলে ভালো হয়।আমার জ্যাঠা মশাই এর এক বন্ধু এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্ট এ চাকরি করতেন স্বপন সরদার বলে একজন। তিনি আমার সমস্ত ঘটনাটা জানেন, তিনি আমাকে একটি সরকারি লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছিল রাসায়নিক সার বিক্রেতার  দোকানের জন্য, কিন্তু সেই ব্যবসা আমি করতে পারলাম না টাকার অভাবে।

আমি তখনও কবিতা এবং গল্প লিখি,লিখে লিখে ওনাকে দেখাতাম উনি আমার লেখাগুলো এডিট করে সুন্দর থেকে সুন্দরতর করে দিতেন। লেখার জীবনের প্রথম ওখানে আমার শুরু হয়, আরো বেশি করে কলম ধরা। বহুরাত স্বপন কাকার বাড়ি সোনারপুরে কাটিয়েছি শুধু লেখার জন্য।হঠাৎ একদিন বাসন্তী হাই এর উপরে আমঝারাতে পুলিশ কে পিসে দিল লরি বাঘের চামড়া নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়।এ খবরটা আমি সমস্ত খবরের কাগজে লিখে জানালাম পরে দেখলাম সমস্ত কাগজে বড় বড় করে প্রথম পাতায় লেখা টি বেরিয়েছে। সেই থেকে শুরু হল আমার সাংবাদিকতা।স্বপন কাকার মাধ্যমে গালিব ইসলাম ভদ্রলোকের কাছে হাজির হলাম থেকে কালান্তরে লিখতেন বলেছিলেন, সুযোগ করিয়ে দেব কিন্তু করে উঠতে পারেননি।এরপরে কুতুব উদ্দিন শেখ ঘুটিয়া শরিফের ছেলে খুব ভদ্র আমার সঙ্গে আজও তার সম্পর্ক রয়েছে ,সে আমাকে আসার সুপ্রভাত বলে একটি কাগজে লেখার সুযোগ করিয়ে দেয়। এখান থেকে শুরু হয়ে যায় আমার জীবনের সাংবাদিকতার পথ চলা।এরপর সিপিআই পার্টির বিশ্বজিৎ মাইতি নামে একটি ছেলে খুব ভদ্র এবং নম্র ,আজও আমাকে খুব ভালবাসেন ।সেই ছেলেটি আমার লেখা পড়ে বলেছিল কাজের সুযোগ আছে তুমি বললে আমি করে দিতে পারি। উনার সুপারিশে কালান্তরে লোক নিয়োগ চলছিল, আদিবাসী মহাসভার এক হিমাংশু দাস এবং শিবু নামে দুই নেতার কাছে আমাকে পাঠালেন ।

ওনারা আমার লেখালেখি বিষয়ে সব শুনে কালান্তরের এডিটর চন্দন চক্রবর্তী কে বলল এই ছেলেটিকে তোমরা বাজিয়ে দেখে নাও, যদি লিখতে পারে তাহলে লেখার সুযোগ করিয়ে দিও। কালান্তর অফিসে রীতিমতো আমাকে ইন্টারভিউ নিল চন্দনদা নিজেই। এরপর আমার কালান্তরে লেখালেখির জগতে শুরু হলো ২০০৬ সাল থেকে। লিখতে লিখতে বামফ্রন্ট বিরোধী লেখা শুরু করে দিই আর একটি মানবাধিকার কাগজের যোগাযোগ হতে।

আমার উপরে অত্যাচার অবিচার অনাচার ঘরছাড়া পর্যন্ত করে দেয়।আমি একটি কাগজের লোক বলে জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইন পড়ে শিয়ালদা স্টেশনে অনাহারে দিন যাচ্ছে ,সেখান থেকে একটি লোকায়ত কে চিঠি লিখে। এরপর আমার উপরে আমার পরিবারের উপরে সিপিএমের অত্যাচার এর পাহাড় জমতে শুরু করে। আমি দীর্ঘ এক বছর বাড়ি আসতে পারিনি,তপন কুমার ঘোষ বলে এক হিন্দু নেতার ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম বহুদিন, তখনও কিন্তু আমি সাংবাদিকতা করি।তিনি সমস্ত জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি করেছিলেন কিন্তু বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আদিবাসী সংবাদ পত্রিকায় আমাকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার ফলে, মহেশ্বেতা দেবী আমাকে ওনার বাড়িতে ডেকে পাঠায়। সেই থেকে মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে থাকার সুযোগ হয়ে ওঠে।

এরপর আমার সঙ্গে আলাপ হয়ে যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার হিসেবে ২০০৮ সালে এসেছিলেন অজয় রানাডে সাহেবের সাথে। অজয় রানাডে আমাকে ঘরে ফেরার। সাহেবে সঙ্গে আমার যোগাযোগ শুরু হওয়ার পরে সমস্ত বিষয়ে উনি আমাকে সাহায্য করতেন, আজও করেন । একটার পর একটা পরীক্ষা করে নিয়েছিলেন।আমি পড়াশোনা করব, এই কথাগুলো আমি নিজে মুখে ও নাকে জানিয়েছিলাম। সেই সময় উনি আমাকে অর্থ দিয়ে নিজেই ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি করে দেয়।সেই সময় আমার পরিবারসহ আমার পরিস্থিতি অতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল। আমাদের জীবন জীবিকা বলতে মাছ চাষের উপরে নির্ভরশীল ছিলাম।বারবার এই স্বপ্নে তারা আমাকে অনাহারে মারার চেষ্টা করে পুকুরে , ফিশারি বিষ বিয়ের সমস্ত মাছ মেরে দেওয়া, যাতে আমরা অনাহারে মরে যাই। অমানবিক নির্মম অত্যাচার আমার সপরিবারে মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়েছিল।

এমন বেহাল হয়ে গেলেন খাওয়া-দাওয়ার পয়সা ছিল না। দিনের পর দিন অনাহারে চলেছিল আমার পরিবারের সবার। আবার মহাশ্বেতা দেবীর কানে পৌঁছে যায়  আমার অত্যাচারের কথা, নিজে থেকে ফোন করে আমার ঘরে ডেকে পাঠান এবং আমার পাশে বহুবার বহু বিষয়ে ছিলেন।মহাশ্বেতা দেবীর হাত ধরে জোয়ার নামে একটি পত্রিকার আমি জন্ম দিলাম এবং তার প্রধান সম্পাদক ছিলাম, থেকে আমার পড়াশুনোর আবার নতুন করে শুরু হয় রানাডে সাহেবের পড়াশোনার খরচা দিতেন বছরের পর বছর। এরপর আরেকটি কাগজ জন্মদিন দূরদৃষ্টি তার ও সম্পাদক আমি ছিলাম। সময় আমি আরেকটি সুযোগ পাই। আদিবাসী সংবাদ বলে একটি পত্রিকায় লেখালেখি করতে করতে, দিল্লির একটি হিন্দি পত্রিকা আদিবাসী দুনিয়া সম্পাদক মুক্তি তিরখী সাথে যোগাযোগ হয়, ওখানে চাকরি করতে শুরু করলাম ২০০৯-২০১০ সালে। সেই সময় ডি চৌহান বলে এক ব্যক্তি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন দিল্লি থেকে। আই পি এস নিউজ সংস্থা করেছিলেন, সত্য মিথ্যা যাচাই করার মতন আমার পরিকাঠামো ছিলনা।

ইন্ডিয়ান প্রেস সার্ভিস সংস্থাটির ফুল ফর্ম ছিল। ওয়েস্ট বেঙ্গল চিপ কাজ করতে শুরু করি । সেই সময় নতুন সরকার এল ২০১১সালে, বাম বিরোধী লেখালেখির ফলে। এসে বামফ্রন্টের নেতারা একের পর এক তৃণমূলে যোগদান করলে। তৃণমূল এগিয়ে এসব নেতারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে দেয়। আমি তিনদিন মতন জেলে হাজতবাস হয়ে যাই, মিথ্যা মামলা দায়ের! সত্য খবর প্রকাশ করার পরিণতি  আমার এমনই হয়েছিল। এত লোকের কাছে চাকরি করেছি কেউ সাহায্য করেনি।

 

মহেশ্বেতা দেবী পুলিশের ডিজি নপরজিতা মুখার্জিকে একটি চিঠি করেছিল। অজয় রানাডে আইপিএস আমাকে সাহায্য করেছিলেন । আবার জীবনে হতাশ। ইতিমধ্যে আইপিএস অজয় রানাডে টাকায় গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। তেমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও। সেই সময়ে ২০১৪ সালে  আত্মশুদ্ধি বলে একটি পত্রিকার জন্ম দিলাম তখনও পর্যন্ত মুক্তির কি আমার সঙ্গে রিলেশন রাখছে।ইন্ডিয়ান প্রেস সার্ভিস সংস্থা কোথায় যে পালিয়ে গেল কোন টাকা-পয়সা মাইনে কিছুই আর দিল না ।

সংস্থাটি যে কোথায় হারিয়ে গেল আর কোন কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। এরপরে আমি আত্মশুদ্ধি বলে একটি পত্রিকার জন্ম দিলাম। মুক্তি তিরখি আদিবাসী দুনিয়ার প্রতিকার সম্পাদক এমন একজনের সাথে আমার যোগাযোগ করালেন তিনি আমার জীবনের আবার সর্বনাশ ডেকে আনলেন মিথ্যা বদনাম। আমার সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলাপ বাশিরুল হক ,তিনি আবার আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। তার ও বন্ধুর ইয়াকুব আলী সহযোগিতায় আমরা আবার নতুনভাবে জন্ম দিলেন নিউজ সারাদিন অনলাইন নিউজ পোর্টাল কে।

 

সিনেমা জগৎ ছেড়ে সাংবাদিকতা জগতের পুরোপুরি ঢলে পড়লাম। দৈনিক সংবাদপত্রের পোস্ট আমি লিখতে শুরু করলাম। ২০১৮ সালের আইনুল হক নিজের পরিচয় গোপন করে আমাকে বাপ্পা নাম দিয়ে ফোন করলো। প্রায় আমাকে ফোন করতেন যখন তখন রাতের বেলাতে বেশিরভাগ সময়ে।

আমি সিনেমা জগতে ভীষণ ঘৃণা করি সে কথা ওকে বারবার শুনিয়েছিলাম,ও আমার জীবনের ইতিহাস বারবার জানার চেষ্টা করল আমি সেভাবে মুখ খুলতে রাজি ছিলাম না। তবে ২০১৯ সালে ছোট মুখে বড় কথা করার জন্য আমাকে প্রথম তার ঘরে ডেকে পাঠায়, আমি তার সঙ্গে তাকে বিশ্বাস করে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম।বাংলা খবর প্রতিদিন নামে একটি কাগজ করবে বলে RNI এর সমস্ত কাগজপত্র আমি নিজে হাতে রেডি করে দিয়েছিলাম। এক আইপিএস ম্যাগাজিন আমি নিজে হাতে প্রকাশ করি।

সেই ম্যাগাজিনের RNI আমি করে দিই।সেই ম্যাগাজিনের বাপ্পাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আমি বাপ্পাকে সঙ্গে নিয়ে যাই আইপিএস অফিসারের বাড়িতে একদিন রাতের বেলায়। কারণ কি জানতেন বাপ্পা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কাগজের আমাকে রাখবে। বাপ্পাকে নিয়ে আজ এত বিতর্ক আইনুল হক তার কথাই আমি বলছি। এরপরে ছোট মুখে বড় কথা বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে সনু দাস নামে কথা বলতে শুরু করে, উনি হচ্ছেন সরস্বতী দাস।ছোট মুখে বড় কথা যা প্রতিশ্রুতি আমাকে বাপ্পা  দিয়েছিল সেই কথা মতন কাজের সময় করলেন না। আমার ডিরেকশনের অভিজ্ঞতা আছে সেটা ছোট মুখে বড় কথা শুরুর আগে ,আমি তিন অবতার বলে একটি ধারাবাহিক করে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম বাপ্পাকে।বাপ্পা মাত্র উচ্চমাধ্যমিক পাস একটি ছেলে তিনি নিজের পরিচয় আত্মগোপন করে, আইনুল হক আসল পরিচয়। আপনারা দেখছেন আমার জীবনের কথা।

আমার নামে বদনাম করছে আত্মগোপন করা দুই ব্যক্তি সানু দাস আর বাপ্পা।কারণ কি জানেন আমার ডিরেকশনের অভিজ্ঞতার বুঝতে পেরেছে ,আর ডিরেকশন থেকে আমার নামটা বাদ দেবে সেই কারণে। ছোট মুখে বড় কথা ছবির ডিরেকশনে নাম থেকে আমাকে বাদ দিতে চায়। ভাগ্যের পরিহাস আজ আমাকে, অনেক যোজন দূরে সরিয়ে দিয়েছে এসব জগত থেকে। আজ আমি ভারতবর্ষের বিভিন্ন বাংলা দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় কলমে লেখক। শুধু তাই নয় এপার বাংলা ওপার বাংলা দুই বাংলার অনলাইন ফোরাম এর একটি কার্যনির্বাহী হিসেবে কাজ করছি।

 

সারা পৃথিবী জুড়ে সার্কের মত জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে আমি কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছি।কিছু না করতে পারলেও বিশ্বের দরবারে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার লেখা প্রকাশিত হচ্ছে বেশ কয়েকটা মাস ধরে। আমি জীবনে সততার সাথে বড় হতে চেয়েছিলাম, আজ আমার পরিণতি অতি ভয়ংকর।আমিও আমার p পরিবারের সকল সদস্যদের কখন কিভাবে সুকৌশল করে মেরে দেবে, তার হিসাব নিকাশ মেলাতে পারব না।

সে চেষ্টা দীর্ঘদিন চালিয়ে যাচ্ছে সমাজবিরোধীরা।ভয়ে ভয়ে জীবন যাপন করতে হয়, একটা ঘরের মধ্যে আত্মগোপনের মতন অবস্থায় আমার আজ জীবন কাটে। খোলামেলা কোন ভাবে জীবন যাপন করতে পারিনা।শারীরিক চর্চা থেকে বহু দূরে সরে গে ছি, কারণ খোলামেলা জায়গা শারীরিক চর্চা করলে। যেকোনো সময় আমি খুন হয়ে যেতে পারি। পুলিশ প্রশাসন সবই জানার পরও আজ নির্বাক।আজও আমার জমি জায়গা জবরদখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে, এই গ্রামের সমাজবিরোধীরা। এসব কথা আমি পুলিশ প্রশাসনকে জানালে খুন হয়ে যেতে পারি। তবে সারা বিশ্বে জানা দরকার আমার জীবনের কথা, তাই এই কথাগুলো লিখতে বাধ্য হলাম। কিভাবে কি চলতে পারে মানুষের জীবন। এই অত্যাচার অবিচার অনাচার হাত থেকে মুক্তি পাবে যে পাবে তার কোন উপায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এই নির্মম অত্যাচার আর কতদিন চলতে পারে না। ঈশ্বর আছে হয়তো একদিন বিচার হবে।

 

লেখক ঃ গণমাধ্যম কর্মী(ভারত)